ফটোগ্রাফি পেশা হিসেবে সবসময় বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, ২০ বছর আগে বাংলাদেশে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত সন্তান একটা ক্যামেরা উপহার বা কোন উপায়ে হাতে পাইলে তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের  উক্ত বালকের(বালিকার আলাপ নিষ্প্রয়োজন)  জীবনের লক্ষ্য নিয়ে প্রজেকশন থাকত শেষমেশ একটা স্টুডিও, রাস্তাঘাটে ছবি তুলে বেড়াবে এবং প্রদর্শনী হবে এত কিছু তখন সাধারন মানুষের জন্য ধারণা করা মুশকিল ছিল, ক্যামেরা ছিল উচ্চবিত্তের গেজেট , এবং যাদের ছিল তাদের ওই টা দিয়ে ইনকাম করতেই হবে এমন কোন কথা ছিলনা।

ফটোগ্রাফির রিটার্ন সম্বন্ধে পরিষ্কার না হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং ক্যামেরা সহজলভ্য হবার আগ পর্যন্ত ফটোগ্রাফার এর সংখ্যা অনেক কম ছিল ।বাংলাদেশে ফটোগ্রাফার বাড়তে থাকে ডিজিটাল ক্যামেরা আসার পর থেকে এবং দাম হাতের নাগালে আসার পর থেকে। অতএব, কাক ছিল অনেক বেশী কবিও ছিল বেশ কিন্তু ফটোগ্রাফার অনেক কম ছিল সেই তুলনায়।

বাংলাদেশে যারা ফটোগ্রাফি করে তাদের প্রত্যেকেই কোন না কোন ফটোগ্রাফি রিলেটেড কাজ দিয়ে ইনকাম করে তাদের প্যাশনটা বাচায়ে রাখে,বা অনেকে ফটোগ্রাফি নিজের মতো করে চর্চা করে এবং তারা অন্য কোন জীবিকা দিয়ে চলে, ফেয়ার এনাফ, কারন তাদেরও পরিবার সমাজের কাছে উত্তর দিতে হয় এবং দিনযাপন করতেও অর্থ লাগে।

শেষ এক দশক বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি এক ধরনের রমরমা সময় পার করছে, এ্যাওয়ার্ড-মানি সাথে পরিচিতি, এঞ্জিও তে যথেষ্ট কাজ, বিয়ে বাড়ির ছবির ক্রমাগত ট্রেনড, সব কিছুর গ্রাফ উপরের দিকেই যাচ্ছিল কো-ভিড-১৯ আসার আগ পর্যন্ত।

২০২০ এর এপ্রিল মাস থেকে  ফটোগ্রাফি দিয়ে রোজগার করার মতো সকল পথ করোনাভাইরাস এর কারনে বন্ধ। এবং এপ্রিলের আগের অবস্থা যে ফিরে আসবেনা সহসা এই বিষয়ে সন্দেহ নাই, বিয়ের ছবি আগের মতো জমজমাট অবস্থায় যেতে সময় লাগবে যদি মিরাকল কিছু না ঘটে, উচ্চ-মধ্যবিত্ত যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা আগের মতো খরচ করতে চাইবেনা, মধ্যবিত্ত এবার চিঁড়েচ্যাপটা অতএব তারা নিজেরাই ফটোগ্রাফার হয়ে যাবে নিজেদের প্রয়োজনে , আর উচ্চবিত্ত শ্রেণী যাদের কে বলা যায় ঈশ্বরের কাছের মানুষ তারা টিকিয়ে রাখবে ভবিষ্য তে বিয়ে বাড়ির ছবি, সেক্ষেত্রে কাজ আগের চেয়ে অনেক কমবে বা রেট অনেক প্রতিযোগিতামুলক হতে পারে।

কর্পোরেট ইভেন্টগুলো আপাতত বন্ধ, এবং একটা পর্যায়ে যেতে হয়ত এই বছর চলে যেতে পারে, বিজ্ঞাপনের ফটোগ্রাফি শুটিং, এঞ্জিওর ফটোগ্রাফি সব কিছু শুরু এবং আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে, আগে থেকেই বাংলাদেশে ফটোগ্রাফিতে কাজ পাওয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা ছিল অন্য সব পেশার মতো, কিন্তু এবার হয়তো প্রতিযোগিতা তিব্র হবে।  সেক্ষেত্রে এই সেক্টরের মানুষগুলো কিভাবে সারভাইভ করবে, আদৌ পারবে কিনা, তারা তাদের পেশা চেঞ্জ করবে কিনা, করলেও তারা কোন পেশায় যাবে?

Coronavirus concept. Virus hits economy. Covid-19 cartoon character.

বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি তারুণ্যনির্ভর, বেশির ভাগ তরুণ নিশ্চয়তা নাই জেনেও প্যাশন এর খাতিরে আসেন, কেউ হয়তো বিয়ে বাড়ির ছবি, কেউবা পত্রিকাতে চাকরি, কেউবা যখন যেটা পান সেই ভিত্তিতে কোনরকম টিকে থাকার লড়াই করছিল, যাতে সে হয়তো তার মতো করে ফটোগ্রাফি চালু রাখতে পারে। অনেকে এর মধ্য দিয়ে আবার ফটোগ্রাফি স্কুলেও পড়াশুনা করে, যেহেতু আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার-গুলো এখনও ফটোগ্রাফি উৎসাহ দেওয়ার মতো অবস্থায় আসে নাই, এদের জন্য ফটোগ্রাফি চালিয়ে যাওয়া সত্যি মুশকিল হবে, এ্যাওয়ার্ড মানি সবাই পায়না এবং পাবেও না, আভ্যন্তরীণ কম্পিটিশন গুলো আগের মতো স্পন্সর পাবে কিনা দেখার বিষয়।

করোনা ভাইরাস বর্তমান সময় থেকে বিশ্লেষণ করলে চলছে না, কারন এটা এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় আছে, এর অর্থনৈতিক ইমপ্যাক্ট ২০২১ পর্যন্ত যেতে পারে, কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফি বাধাগ্রস্ত হয়ে আছে কিন্তু ব্যক্তি ফটোগ্রাফার যে ক্যামেরা নিয়ে বের হইলেই জার্নি শুরু এবং যার ছবি তোলার সময় বেচা-বিক্রির চিন্তা করতে হয়না তার জন্য করোনা ভাইরাস থাকা না থাকা সেই লেভেলের পার্থক্য তৈরি করেনা বেচা-বিক্রির ব্যাপারে, এক্সিবিশন করতে না পারলে নিজেকে তুলে ধরতে না পারলে যারা ছটফট করে তাদের ব্যাপারে কিছু বলার নাই, কারন তুলে ধরবেন আপনার কাজ আপনারে তুলে ধরার কিছু নাই, এবং আপনার কাজ দেখানোর সব সময় উপায় আছে এবং থাকবে তার জন্য গ্যালারী আবশ্যক না।

(আমার ধারণা) করোনা ভাইরাস ও লক-ডাউন অনেক ফটোগ্রাফার কে তার ওরিজিনাল সেলফ এর সাথে সংযোগ দৃঢ় করবে/করেছে, এই লেভেলের প্যানিক, অনিশ্চয়তা, ও একা থাকার পরে আর্টিস্ট মাইন্ড পরিবর্তন হতে বাধ্য, এবং এই পরিবর্তিত মাইন্ড দিয়ে ভালো কিছু ফটোগ্রাফি এবং সর্বোপরি ভিন্ন আর্ট আশা করা যায়। পোস্ট কভিড আর্ট অনেক ভিন্ন বা বর্তমান থেকে ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে উত্তর দেওয়া শুরু করতে পারে এই ক্রাইসিস এর জবাবে।

(আমার ধারণা)আর্ট সম্ভবত ফিলসফিকালি একটা nosedive দিবে আরও গভীরে, আরও দুর্বোধ্য হতে পারে সহজ হওয়ার আগে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here